কোড তৈরি, সফটওয়্যার নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য এআই এজেন্ট ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করে কোপাইলট অ্যাপ নতুনভাবে সাজিয়েছে মাইক্রোসফট। নতুন সংস্করণে কোপাইলটের মধ্যেই সরাসরি ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।
মাইক্রোসফটের নতুন কোপাইলটকে শুধু চ্যাটভিত্তিক এআই সহকারী হিসেবে না রেখে আরও বিস্তৃত কাজের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ‘হোম’, ‘কোড’ ও ‘অটোপাইলট’—এই সুবিধাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হোম অংশে চ্যাট ও ‘কোওয়ার্ক’ সুবিধা এক জায়গায় রাখা হয়েছে। সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, খসড়া তৈরি বা দ্রুত তথ্য খোঁজার জন্য চ্যাট ব্যবহার করা যাবে। আর একাধিক ধাপের জটিল কাজ কোওয়ার্কের মাধ্যমে কোপাইলটকে দিয়ে করানো যাবে।
কোপাইলটের নতুন ‘কোড’ সুবিধার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং না জানলেও সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিয়ে অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড ও বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করা যাবে। এ সুবিধায় গিটহাব কোপাইলটে ব্যবহৃত একই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রন্টিয়ার প্রোগ্রামের আওতায় ‘কোড’ সুবিধাটি ধীরে ধীরে চালু করা হবে।
নতুন ‘অটোপাইলট’ সুবিধাটি এমন একটি এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সামনে না থাকলেও নির্ধারিত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। এটি জুন মাসে মাইক্রোসফটের উন্মোচন করা ‘স্কাউট’ এআই এজেন্টের নতুন সংস্করণ। অটোপাইলটকে প্রতিষ্ঠানের ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরিতে এজেন্টটির আলাদা পরিচয় রাখা যাবে এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও দেওয়া যাবে।
অটোপাইলট কী ধরনের কাজ করতে পারবে, সেটি ব্যবহারকারীরাই নিয়ন্ত্রণ করবেন। মাইক্রোসফটের কোপাইলট বিভাগের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানি পার্ল বলেন, নিরাপত্তা, আইন মেনে চলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট ব্যবহার কঠিন হয়ে উঠেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই অটোপাইলট তৈরি করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশে এটি ব্যবহার করা যায়।
নতুন কোপাইলটে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্টও সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোপাইলটের ভেতর থেকেই সম্পাদনাযোগ্য নথি, স্প্রেডশিট ও উপস্থাপনা তৈরি এবং হালনাগাদ করা যাবে। এসব ফাইলে দলের অন্য সদস্যরাও কাজ করতে পারবেন এবং পরিবর্তনগুলো সংশ্লিষ্ট মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপের সঙ্গে সমন্বিত থাকবে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের খরচ নজরে রাখার সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মীরা এআই ও এআই এজেন্ট ব্যবহারের কারণে কত খরচ হচ্ছে, সে বিষয়ে সরাসরি ধারণা পাবেন। দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ব্যবহারের কারণে প্রতিষ্ঠানের অপ্রত্যাশিত খরচের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এ সুবিধা চালু করা হয়েছে।
অটোপাইলট সুবিধা চলতি মাসের শেষ দিকে ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।
সূত্র: রয়টার্স
