গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর একটি ভবন ধসে নবদম্পতিসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহত নবদম্পতি ফ্লোরিন্ডা হক্সহা ও ইয়ান আলেকজান্ডার কার্কপ্যাট্রিক মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করতে গ্রিসে গিয়েছিলেন।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম গ্রিক সিটি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার কিছু পর লিসিক্রেটাস স্ট্রিটে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ে। এতে আশপাশের কয়েকটি ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শনিবার উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফ্লোরিন্ডা হক্সহা, তার স্বামী ইয়ান আলেকজান্ডার কার্কপ্যাট্রিক, এরিস চানী, তার স্বামী ফ্লোরিন হক্সহা, অ্যাথিনা পাপারেস্কু এবং ৭৭ বছর বয়সী এডমন্ড হিংস।
নিহতদের মধ্যে চারজন ভবনটির প্রথম তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত এবং মার্কিন নাগরিক ছিলেন।
ফ্লোরিন্ডা হক্সহা ও ইয়ান আলেকজান্ডার কার্কপ্যাট্রিক সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমার জন্য তারা এথেন্সে যান।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাদের নামে পাসপোর্ট পাওয়ার পর এক স্বজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে সহায়তা চান। তিনি জানান, প্লাকার ধসে পড়া ভবনটিতে ইয়ান ও ফ্লোরিন্ডা ছিলেন এবং তারা মধুচন্দ্রিমার জন্য গ্রিসে গিয়েছিলেন।
নিহত আরেক দম্পতি এরিস চানী ও ফ্লোরিন হক্সহা সন্তানসম্ভবা ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারাও একই ভবনে অবস্থান করছিলেন।
অন্যদিকে অ্যাথিনা পাপারেস্কু ও ৭৭ বছর বয়সী এডমন্ড হিংস ভবনটির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন। এডমন্ড হিংস ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বলে জানা গেছে।
বিস্ফোরণের পর গ্রিক ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালায়। শনিবার শেষ দুই মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
এদিকে বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস লিককে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ভবন, ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি তথ্য পরীক্ষা করা হবে।
