ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে মাথা ও হাতে গুরুতর আহত হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণের শিকার হন। তবে গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই বিমানে থাকা একমাত্র চিকিৎসক মুসায়েভ শোতা।
ঘটনার পর মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে শোতাসহ কয়েকজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর শোতাই প্রথম আহত পাইলটের চিকিৎসা শুরু করেন।
শোতা জানান, ককপিটে গিয়ে তিনি মাচ্ছারকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। তার মাথা ও হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তিনি দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
শোতার ভাষ্য অনুযায়ী, মাচ্ছারের মাথা ও হাতের ক্ষত এত গভীর ছিল যে সেগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠলেও তখনো সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বিমানের মেঝেতে রক্তের মধ্যে পড়ে থাকলেও মাচ্ছার সচেতন ছিলেন। তিনি যাত্রীদের জানান, তার বয়স ৩৯ বছর এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। শোতা আরও জানান, হামলাকারী তাকে ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি গালিগালাজও করেছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে শোতা বলেন, আহত পাইলট পুরো সময় প্রার্থনা করছিলেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করলে সৌদি চিকিৎসাকর্মীরা মাচ্ছারের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তাদের কাছ থেকেই শোতা জানতে পারেন, পাইলট বেঁচে গেছেন এবং বিপদমুক্ত হয়েছেন।
রিয়াদে ভারতের দূতাবাস ও জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট জানিয়েছে, মাচ্ছারের শারীরিক অবস্থার ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে। বর্তমানে তিনি উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রাথমিক তথ্যে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। মাচ্ছারের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তার চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
