রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রশংসা, ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আশাবাদ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ, অভিন্ন লক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও কার্যকর হবে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। অর্থনীতি, উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
তার মতে, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতেও উভয় দেশ একে অপরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। এই সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
তিনি উল্লেখ করেন, মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় আস্থার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ডা. মো. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে একটি পরীক্ষিত বন্ধুত্ব হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রশংসার পাশাপাশি উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
