নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা
দেশে আমের বাম্পার উৎপাদনের ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় অনেক চাষি কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি আমের চাহিদা বাড়ছে এবং সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীতে আম ও অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাষ্পতাপ প্রয়োগ (ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট) প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী জানান, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব বাজারে রপ্তানি বাড়ানো গেলে দেশের কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তার মতে, অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে মূল্য কমে গেলে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
কৃষিপণ্যের সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার দেশব্যাপী কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ বা ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক সংরক্ষণাগার স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা মৌসুমে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের অপচয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
আমের পাশাপাশি বাংলাদেশের কাঁঠাল বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশি কাঁঠাল আমদানির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে কিছু চালান সেখানে পাঠানো হয়েছে।
এই পরীক্ষামূলক রপ্তানি ইতিবাচক ফল দিলে কাঁঠালের আন্তর্জাতিক বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রপ্তানি খাতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ পরিবহন ব্যয়। বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন কৃষিপণ্য বিদেশে পাঠাতে বিমান পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
এ কারণে আম রপ্তানির খরচ কমাতে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। একই সঙ্গে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গেও এ বিষয়ে সমন্বয় করা হবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস—এই তিনটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ফলচাষ খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
দেশে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন কৃষি খাতের সাফল্যের প্রতিফলন, তেমনি উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজার নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রপ্তানি সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি দেশের কৃষি অর্থনীতিও নতুন গতি পেতে পারে।
