প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান
দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে এবং এখন জনগণকে দেশকেন্দ্রিক ও জনস্বার্থভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের দলীয় প্রভাবমুক্তকরণ, দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুচর মাঠে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, সাধারণ নাগরিকদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পেতে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের আশ্রয় নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের কাজ হবে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা, কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা নয়।
তার মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জন সম্ভব হবে না।
বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান করলে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হয়।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়মের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে না। এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ রোগীদের ওপর পড়ে।
সমাজ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অবৈধ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নির্মূলের আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
এনসিপির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সারজিস আলম দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে দলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হলেও তার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এসব অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া অতীত সরকারের সময় প্রশাসনের দলীয়করণ, গুম, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দল সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। মাঠপর্যায়ের জনসংযোগ, পদযাত্রা ও সমাবেশের মাধ্যমে দলগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপিও বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে।
পাবনার এই কর্মসূচিতে সারজিস আলমের বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনসেবার মানোন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারণে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
