ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ ১৪ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বেশ সক্রিয় অবস্থায় থাকায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
বিশেষ করে কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের নদীবন্দরভিত্তিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগের বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে সড়ক যোগাযোগ, নৌযান চলাচল এবং নগর জীবনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। নিম্নাঞ্চলে পানি জমে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে খোলা স্থানে অবস্থানকারী মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে চলমান বর্ষণ পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, নদীবন্দর এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ অঞ্চলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
