পরপর দুই ভিন্নধর্মী কাজের ইতিবাচক সাড়ায় অনুপ্রাণিত জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী
দেশীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া দুটি কাজের মাধ্যমে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মালিক’ এবং বাবা দিবসকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’—দুই মাধ্যমেই তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই ভিন্নধর্মী চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে মিম আবারও নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। দর্শক ও সমালোচকদের একটি বড় অংশের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অভিনয়ে পরিণতিবোধ ও আত্মবিশ্বাস আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ সিনেমাটি মুক্তির পর দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। ছবিতে মিমের অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এরপর বাবা দিবস উপলক্ষে নির্মাতা কাজী আসাদের ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’ মুক্তি পেলে সেখানে ভিন্ন আবহের একটি চরিত্রে দেখা যায় তাকে। পারিবারিক আবেগঘন গল্পভিত্তিক এই ওয়েব ফিল্মেও তার অভিনয় দর্শকদের মনোযোগ কাড়ে।
পরপর দুটি কাজের সাফল্য নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘মালিক’ মুক্তির আগে থেকেই তিনি আশাবাদী ছিলেন যে ছবিটি দর্শকদের ভালো লাগবে। মুক্তির পর বিভিন্ন হলে গিয়ে সরাসরি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখার সুযোগ হয়েছে তার। দর্শকদের আন্তরিক ভালোবাসা ও ইতিবাচক মন্তব্য তাকে আনন্দিত করেছে।
তিনি আরও জানান, ‘লাইফলাইন’ মুক্তির পরও বিভিন্ন মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসাসূচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। এই ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে ভবিষ্যতে আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’-এ মিমের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ। দীর্ঘদিন পর তাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখে দর্শকদের অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিনয়ও দর্শক মহলে ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিম জানিয়েছেন, অভিনয়ই তার প্রধান পেশা এবং তিনি সবসময় নিজেকে নতুন কাজের জন্য প্রস্তুত রাখেন। নিয়মিত সিনেমা, ওয়েব ফিল্ম ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও তিনি গল্প ও চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে চান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কাজেই তিনি যুক্ত হতে চান যা ব্যক্তিগতভাবে তাকে স্পর্শ করবে এবং একই সঙ্গে দর্শকদের কাছেও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলা চলচ্চিত্র ও ওটিটি—দুই প্ল্যাটফর্মেই সমানভাবে সক্রিয় বিদ্যা সিনহা মিমের সাম্প্রতিক সাফল্য তার ক্যারিয়ারের নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে মানসম্পন্ন গল্প ও চরিত্রে উপস্থিত হলে আগামী দিনগুলোতেও তিনি দর্শকদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে থাকবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সময়ে চলচ্চিত্র ও ওয়েব কনটেন্টে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করা সহজ নয়। তবে ‘মালিক’ ও ‘লাইফলাইন’-এর মাধ্যমে বিদ্যা সিনহা মিম সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন। দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তার ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
