চরিত্রের প্রয়োজনে অন্তরঙ্গ বা চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয়কে বলিউডে দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হলেও অনেক শিল্পী ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রশ্নে এমন দৃশ্যে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর ফলে কেউ বড় বাজেটের সিনেমা হারিয়েছেন, কেউ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র থেকে বাদ পড়েছেন, আবার কারও সঙ্গে নির্মাতাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ব্যক্তিগত অবস্থানে অনড় থাকা এমন কয়েকজন বলিউড তারকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলো।
কঙ্গনা রনৌত
বলিউডের স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন, অপ্রয়োজনীয় অন্তরঙ্গ বা চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয়ে তিনি আগ্রহী নন। তার ভাষ্য, কেবল দর্শক আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এ ধরনের দৃশ্য সংযোজন করা হলে তিনি সেই ছবিতে কাজ করতে রাজি হন না। ক্যারিয়ারের শুরুতে এ অবস্থানের কারণে কয়েকটি সিনেমা থেকে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল বলে আলোচনা থাকলেও কোন কোন ছবি হাতছাড়া হয়েছে, তা তিনি প্রকাশ করেননি।
চিত্রাঙ্গদা সিং
২০১৫ সালে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে পরিচালক কুশান নন্দী চিত্রনাট্যের বাইরে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করতে চাইলে আপত্তি জানান অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তিনি শুটিং ছেড়ে দেন এবং পরে পুরো চলচ্চিত্র থেকেই সরে দাঁড়ান।
পরে চিত্রাঙ্গদা বলেন, একজন শিল্পীর নিজের সীমারেখা নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং নির্মাতা বা প্রযোজকের ইচ্ছার বাইরে কাউকে কোনো দৃশ্যে অভিনয়ে বাধ্য করা উচিত নয়।
মল্লিকা শেরাওয়াত
ক্যারিয়ারের শুরুতে সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেলেও মল্লিকা শেরাওয়াত পরে অভিযোগ করেন, অনেক নির্মাতা তাকে শুধুমাত্র অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্যই নির্বাচিত করতে চাইতেন।
মল্লিকার দাবি, চিত্রনাট্যের প্রয়োজন নেই—এমন দৃশ্যে অভিনয়ে রাজি না হওয়ায় তিনি একাধিক সিনেমার সুযোগ হারান। তার মতে, অনেক সময় অভিনেত্রীদের এমন চাপের মুখে পড়তে হয়, যাতে এসব দৃশ্যে রাজি না হলে তাদের অসহযোগী হিসেবে দেখা হয়।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মা মধু চোপড়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নির্দিষ্ট ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রিয়াঙ্কা কয়েকটি সিনেমার সুযোগ হারিয়েছিলেন।
প্রিয়াঙ্কাও একবার জানান, একটি ছবির পরিচালক এমন একটি দৃশ্যে অভিনয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে জোর করে অন্তর্বাস প্রদর্শনের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছিল। পরিচালকের যুক্তি ছিল, তা না হলে দর্শক সিনেমাটি দেখবে না। প্রস্তাবটিকে অসম্মানজনক মনে করে তিনি ছবিটি ছেড়ে দেন।
সোনাক্ষী সিনহা
দীর্ঘ সময় ধরে সোনাক্ষী সিনহার চুক্তিতে চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় না করার শর্ত ছিল বলে বলিউডে প্রচলিত ছিল। এ কারণে কিছু ছবিতে নির্মাতাদের দৃশ্য পরিবর্তন করতে হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে অন্য অভিনেত্রীকে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
পরে তিনি কিছু বিষয়ে নমনীয় হলেও দীর্ঘ সময় নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রেখেছেন।
ম্রুণাল ঠাকুর
ম্রুণাল ঠাকুর জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অন্তরঙ্গ বা চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে তার এবং তার পরিবারের আপত্তি ছিল। বিশেষ করে তার বাবা-মা এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয়ের অনুমতি দিতে চাননি। ফলে কয়েকটি সিনেমার সুযোগ তিনি হারান।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন তিনি এসব দৃশ্য এড়িয়ে চলেন। পরে সময়ের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এলেও ক্যারিয়ারের শুরুতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব তাকে বহন করতে হয়েছে।
অসিন
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকে বলিউডে আসা অভিনেত্রী অসিনও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় না করার নীতির জন্য পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে তিনি চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করতে চাইতেন না।
এ কারণে কয়েকটি চলচ্চিত্রে তাকে বিবেচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত অন্য অভিনেত্রীকে নেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় বলিউডে আলোচনা ছিল।
(তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডিএনএ অবলম্বনে)
