আইকিউএয়ারের সূচকে ১২৫ দেশের মধ্যে ১৬তম অবস্থানে বাংলাদেশ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বায়ুদূষণ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বর্তমানে মাঝারি বা সহনীয় বায়ুমানের শহরগুলোর মধ্যে অবস্থান করছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিনশাসার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১৭৪, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিভুক্ত। একই সময়ে ঢাকার AQI স্কোর ৮৬ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ মানের বায়ু নির্দেশ করে।
বিশ্বব্যাপী বায়ুর গুণগত মান পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এই সূচকে:
- ০-৫০ স্কোরকে ভালো বায়ুমান ধরা হয়।
- ৫১-১০০ স্কোর মাঝারি বা সহনীয়।
- ১০১-১৫০ স্কোর সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
- ১৫১-২০০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর।
- ২০১-৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর।
- ৩০১-এর বেশি স্কোরকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই মানদণ্ড অনুযায়ী, কিনশাসার বর্তমান বায়ুমান জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকার বাতাস তুলনামূলকভাবে সহনীয় হলেও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
পরিবেশবিদদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় না থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বাংলাদেশেও শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার বায়ুদূষণ প্রায়ই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর কণার পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে অবস্থান করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্তদের জন্য এ ধরনের পরিবেশ বেশি ক্ষতিকর।
বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণ একটি বড় পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। যদিও বর্তমানে ঢাকার বায়ুমান মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে, তবুও টেকসই নগর পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
