বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বাণী; বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব ও অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেন তারেক রহমান
তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে তরুণদের জন্য একটি সক্ষম ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য— “তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রস্তুতিতে সুন্দর আগামী গড়ি”—কে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই জনমিতিক সুযোগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তার মতে, একটি দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এমন এক প্রজন্ম, যারা হবে প্রযুক্তিবান্ধব, উদ্ভাবনী, মানবিক এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির উপযোগী। তরুণদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় তরুণদের যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ কেবল মানুষের জীবনমান উন্নয়নই নয়, দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টিকে তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতির অন্যতম অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সমস্যা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পুষ্টি উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নবীন প্রজন্মকে জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি তরুণ-তরুণী যদি সমান সুযোগ পায় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশ করতে পারে, তবে তারাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশের প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি দক্ষ, সুস্থ ও আত্মনির্ভর তরুণ প্রজন্ম গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জনমিতিক সম্ভাবনাকে উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
