মেডিকেল টিম গঠন, ওষুধ মজুত ও গর্ভবতী নারীদের বিশেষ সেবায় জোর
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখতে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করা, অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক এবং দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনরা অংশ নেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবেন।
এছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ তথ্য হালনাগাদ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বন্যাদুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে জরুরি ওষুধ, ওআরএস, খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় এসব উপকরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বন্যাকালে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।
এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো, বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। এজন্য চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে তাঁদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত রাখতে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম তুলে ধরতে বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাত দফা নির্দেশনা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্গত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা, রোগ প্রতিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় এসব পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে।
