বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বিভিন্ন মহলের
বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক স্পিকার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। রোববার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, রোববার ভোর প্রায় ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রশাসন, সংসদ ও মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে সক্রিয় ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁকে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা খাতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা সে সময় আলোচিত ছিল।
এরপর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংসদ পরিচালনা এবং আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব রাজনৈতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছিল।
দলের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁর জানাজা একাধিক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি মসজিদে, পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজার আয়োজন করা হবে। বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের অন্যতম। আইন, প্রশাসন ও সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। বিভিন্ন সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে সংসদীয় গণতন্ত্র, মন্ত্রিপরিষদ পরিচালনা এবং দলীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রায় এক শতাব্দীর জীবন অতিক্রম করা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের রাজনীতি, প্রশাসন ও সংসদীয় ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
