ঢাকাজুড়ে সড়কে পানি, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ
রাজধানী ঢাকায় সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মাত্র ছয় ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মাসে একটানা ছয় ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ মিলিমিটার।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং বায়ুমণ্ডলের চাপের পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণ দেখা যাচ্ছে।
রোববার সকালে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুরের কাজীপাড়া এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক অলিগলি ও আবাসিক এলাকার প্রবেশপথও পানিতে তলিয়ে যায়।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে রোববার তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিকুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে দিনভর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকায় পানির চাপ বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ওই দুই বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিকল্পনার দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল-নালা দখলের কারণে রাজধানীতে স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নাগরিক দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
সকালের ব্যস্ত সময়ে সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতি কমে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদেরও বাড়তি দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি নগর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
