‘দলের সংকটময় সময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন’—ডা. শফিকুর রহমান
সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক শোকবার্তায় মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের সময়ে তিনি জামায়াতের নেতাদের প্রতি সহমর্মী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
রোববার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. শফিকুর রহমান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান।
জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার বিভিন্ন সময়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে যখন একাধিক আইনি প্রক্রিয়া চলছিল, তখন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেছিলেন।
তিনি বলেন, দলের নেতাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা দিলেও কখনো ব্যক্তিগতভাবে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। এ কারণে তাঁর প্রতি দল ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা রয়েছে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অবদান রেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় রাজনীতি, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং আইন অঙ্গনে তাঁর অভিজ্ঞতা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
তাঁর মৃত্যুর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকবার্তা দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন মহল তাঁর ব্যক্তিগত সততা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আইনজ্ঞ হিসেবে অবদান স্মরণ করছে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং আইন পেশায় অবদান ভবিষ্যতেও আলোচিত হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের শোকবার্তা তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
