শত কোটি টাকার গয়না, প্রাসাদোপম বাসভবন ও ব্যক্তিগত জেট—ভারতের অন্যতম আলোচিত সমাজসেবী ও শিল্পপতি পরিবারের সদস্য সুদা রেড্ডির জীবনযাপন ঘিরে নতুন আলোচনা
ভারতের হায়দরাবাদভিত্তিক শিল্পপতি পরিবার ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সুদা রেড্ডি সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছেন তার বিলাসবহুল জীবনধারা, বিরল গয়নার সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে উপস্থিতির কারণে। প্যারিস হাউট কৌচার উইক এবং মেট গালায় তার অংশগ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক লাইফস্টাইল মহলে তাকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সুদা রেড্ডি ভারতের বৃহৎ অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড (এমইআইএল)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘সুদা রেড্ডি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অন্ধ্র প্রদেশের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা সুদা রেড্ডি অল্প বয়সে শিল্পপতি পি. ভি. কৃষ্ণ রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কৃষ্ণ রেড্ডি ভারতের অবকাঠামো খাতের অন্যতম প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বিষয়ক বিভিন্ন তালিকা অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
ব্যবসায়িক পরিচয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন, শিল্পকলা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সুদা রেড্ডি নিজস্ব একটি পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
সুদা রেড্ডি ও তার পরিবার হায়দরাবাদের অভিজাত জুবিলি হিলস এলাকায় একটি বিলাসবহুল প্রাসাদে বসবাস করেন। বিশাল এই বাসভবনে রয়েছে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, সুবিশাল বাগান, একাধিক ফোয়ারা, অভিজাত অভ্যর্থনা কক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে বাড়িটির গ্রিক-রোমান ধাঁচের নকশা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে সুদা রেড্ডির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো তার বিরল ও মূল্যবান গয়নার সংগ্রহ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তিনি শত শত ক্যারেটের হীরা, পান্না, ট্যানজানাইট ও অন্যান্য মূল্যবান রত্নখচিত অলংকার পরিধান করে আলোচনায় আসেন।
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা বহু অলংকারের বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকার সমপরিমাণ। বিশেষ করে মেট গালায় প্রদর্শিত বিরল রত্নখচিত নেকলেস এবং প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহে ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের হীরার অলংকার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
ব্যবসায়িক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে সুদা রেড্ডি নিয়মিত ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার সংগ্রহে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের গাড়ি।
এর মধ্যে কালো ও সোনালি রঙের একটি রোলস-রয়েস ঘোস্ট বিশেষভাবে পরিচিত, যা তার স্বামী উপহার দিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও ফ্যাশন সামগ্রীর সংগ্রহও রয়েছে তার।
বিলাসবহুল জীবনযাপনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কাজেও সুদা রেড্ডি সক্রিয়। তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা শিবির, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, খাদ্য বিতরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পরিবারের কাছ থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার শিক্ষা পেয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও সেই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদা রেড্ডির পরিচিতি কেবল একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং সমাজসেবামূলক উদ্যোগ তাকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী নারী ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশ্বায়নের যুগে ব্যবসা, ফ্যাশন ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে একসঙ্গে ধারণ করে তিনি যে পরিচিতি তৈরি করেছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
