তাপমাত্রা বাড়তে পারে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত, আর্দ্রতায় ভ্যাপসা গরমে বাড়ছে জনদুর্ভোগ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার পর অবশেষে রাজধানীবাসী স্বস্তির রোদ দেখল। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকার আকাশে উজ্জ্বল রোদ দেখা গেলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের দ্বিতীয় ভাগে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রোদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে আকাশে ছড়িয়ে থাকা মেঘের কারণে আবহাওয়া পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পর আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় নগরজীবনে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চলতি মাসের শুরুতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এরপর ৫ জুলাই একটি নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই বৃষ্টি রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
গত এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে দেশের অন্তত ১১টি জেলা বন্যাকবলিত হয়। রাজধানী ঢাকাও জলাবদ্ধতা ও যানজটের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা ওই দিনের দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ছিল।
সোমবারও দিনভর বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও বিকেলের পর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হয়। সন্ধ্যার দিকে আবার হালকা বৃষ্টি দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তা বেড়ে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সূর্যের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের অনুভূতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সকালের পূর্বাভাসে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বৃষ্টি ভারী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়াবিদদের মতে, যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে তা দুপুরের পর হতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিপাত কমে গেলেও বাতাসে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়ে গেছে। এই আর্দ্রতার কারণেই তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও মানুষের কাছে গরমের অনুভূতি বেশি হচ্ছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলীয় বাষ্প আরও ঘনীভূত হলে নতুন করে বৃষ্টিপাতের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্দ্রতাই ভ্যাপসা গরমের প্রধান কারণ।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি জুলাই মাসে আরও অন্তত দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। একটি আগামী বৃহস্পতিবারের দিকে এবং অন্যটি মাসের শেষভাগে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এসব লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েক দিনের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও রোদ ওঠায় অনেক এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করেছে। তবে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কর্মজীবী মানুষ, পথচারী এবং খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্ষাকালে নগরীর জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতে নগরজীবন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
টানা বর্ষণের পর রাজধানীতে সূর্যের দেখা মিললেও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। দিনের পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা এবং মাসজুড়ে নতুন লঘুচাপের পূর্বাভাস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বর্ষার প্রভাব অব্যাহত থাকবে। তাই আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
