কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইভি ব্যবহারে জোর, সংসদে জানালেন সেতুমন্ত্রী
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহৃত যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশকে ইলেকট্রিক মোটরযানে (ইভি) রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার জাতীয় সংসদে এক জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নীতিগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহন থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। এ কারণে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহন খাত থেকে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক মোটরযানের নিবন্ধন ও সড়কে চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাসে নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানির ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইলেকট্রিক বাস শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অন্যান্য খাতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত শুল্কহারেও আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ কমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এই লক্ষ্য অর্জনে পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ইভি প্রযুক্তি ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদে আলোচনার সময় বিভিন্ন সেতুর টোল প্রত্যাহারের দাবি প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, টোল নির্ধারণ ও আদায় মূলত রাজস্বসংক্রান্ত বিষয় এবং এটি অর্থ বিভাগের আওতাভুক্ত। ফলে কোনো মন্ত্রণালয় এককভাবে টোল মওকুফের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
তিনি জানান, ছোট সেতুর ক্ষেত্রে টোল কমানো বা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে টোল আদায় বন্ধ করার সুযোগ সীমিত।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আন্তঃনগর ট্রেনের নতুন স্টপেজ স্থাপনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনের গতি ও সেবার মান বজায় রাখতে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। অতিরিক্ত স্টপেজ যুক্ত করা হলে দ্রুত যাতায়াতের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
পরিবহন খাতকে আরও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে সরকার যে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তা দেশের জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০ শতাংশ যানবাহনকে ইভিতে রূপান্তর করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং নীতিগত সমন্বয় নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
