শিক্ষায় নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন তারেক রহমান; মেধাবী ছাত্রীদের জন্য থাকবে বৃত্তির ব্যবস্থা, ধাপে ধাপে দেওয়া হবে নতুন স্কুল ড্রেস
দেশের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনার্স পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু থাকা উপবৃত্তির আদলে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রীদের জন্য বৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নারীশিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয়। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নতুন স্কুল ড্রেস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিডডে মিল কর্মসূচি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুদের উন্নত খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু শিক্ষিত নয়, মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো শিশু যেন মানুষ, প্রাণী বা পরিবেশের প্রতি নিষ্ঠুর মনোভাব নিয়ে বড় না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
তার ভাষায়, “দেশ গঠনে মানবিক সৈনিক প্রয়োজন। সেই মানবিক নাগরিক গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়।”
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ও পদক প্রদান করা হয়। এতে অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রী উপভোগ করেন।
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতি বছর বর্ষাকালে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাছ মানুষের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা শেষে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার এবং ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শিক্ষা খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
