পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি বিরল সামুদ্রিক শোল মাছ। স্থানীয়ভাবে ‘মথু’ বা ‘দাঁতিনা সুরমা’ নামে পরিচিত মাছটি পরে কলাপাড়ার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলের গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি বড় আকারের সামুদ্রিক শোল মাছ পেয়েছেন জেলেরা। ২০ কেজি ওজনের মাছটি সোমবার সকালে কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
মাছটি স্থানীয় একটি আড়তে বিক্রির জন্য তোলা হলে অনেকেই সেটি দেখতে ভিড় করেন। পরে প্রতি কেজি ৭০০ টাকা দরে মোট ১৪ হাজার টাকায় মাছটি যৌথভাবে কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুর রহমান খান ও সোহাগ আহমেদ।
জেলে রুহুল আমিন জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁরা টানা নয় দিন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন। এ সময় শনিবার মাছটি তাঁর জালে ধরা পড়ে। পরে রোববার বিকেলে তাঁরা উপকূলে ফিরে আসেন।
ক্রেতারা জানান, বাজারে সাধারণত এত বড় আকারের সামুদ্রিক শোল মাছ দেখা যায় না। বিরল এই মাছটি দেখে তাঁরা নিজেদের পরিবারের জন্য কিনে নিয়েছেন।
মাছটির পরিচয় সম্পর্কে জানতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান রাজীব সরকারের কাছে এর ছবি পাঠানো হয়। তিনি জানান, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Rachycentron canadum। জেলেদের কাছে এটি ‘সামুদ্রিক শোল’ নামে পরিচিত হলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাংসাশী প্রজাতি।
রাজীব সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাছটি সাধারণত উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্র অঞ্চলে পাওয়া যায়, যার মধ্যে বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমাও রয়েছে। এর দেহ লম্বাটে, শক্তিশালী ও টর্পেডোর মতো আকৃতির। গা গাঢ় বাদামি থেকে কালচে রঙের এবং শরীরের দুই পাশে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত সাদা রঙের একটি সুস্পষ্ট অনুভূমিক ডোরা থাকে, যা এ প্রজাতিকে সহজে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সামুদ্রিক শোল গভীর সমুদ্রের একটি তুলনামূলক বিরল মাছ। অনুকূল পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্য পেলে এ প্রজাতির মাছ বেশ বড় আকার ধারণ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় যদি নিয়মিত এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ে, তাহলে জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এবং স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
