বর্ষাকালে সহজলভ্য পাটশাক শুধু একটি মৌসুমি সবজি নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ একটি খাদ্য। ভিটামিন এ, বি৬, সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফোলেটসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকায় এটি শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পাটশাক রাখলে চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা থেকে শুরু করে হাড় ও দাঁত মজবুত রাখার মতো নানা উপকার পাওয়া যেতে পারে।
চোখের সুস্থতায় সহায়ক
চোখের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন বি৬ ও ফোলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব পুষ্টি উপাদান দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে প্রায় ০.৪৯৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬ থাকে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা
পাটশাকে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ফলে সর্দি-কাশি, ফ্লু ও অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়তে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়ে নিয়মিত পাটশাক খাওয়া উপকারী হতে পারে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য সহায়ক
পাটশাকে থাকা ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট নতুন কোষ তৈরির পাশাপাশি ডিএনএ মেরামতের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ফোলেট গ্রহণ কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে প্রায় ৯০ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট থাকে, যা দৈনিক চাহিদার প্রায় ২২.৫ শতাংশ পূরণ করে।
দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় কার্যকর
ক্যালসিয়াম দাঁত ও চোয়ালের হাড় শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাটশাকে থাকা ক্যালসিয়াম দাঁতের গঠন মজবুত রাখতে এবং মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই শাক অন্তর্ভুক্ত করলে দাঁতের ক্ষয় ও কিছু মাড়ির সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় উপকারী
পাটশাকে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম উভয়ই রয়েছে, যা হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করে। রান্না করা এক কাপ (৮৭ গ্রাম) পাটশাকে প্রায় ১৮৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৫৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই খনিজের সুষম উপস্থিতি হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক
পাটশাকে থাকা ভিটামিন বি২ শরীরে কোলাজেন উৎপাদন ও সংরক্ষণে সহায়তা করে। কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে এবং বয়সজনিত বলিরেখা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পাটশাক ত্বক ও চুলের যত্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মৌসুমি শাক নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই পাটশাক গ্রহণ করা উচিত।
