অতিরিক্ত শক্তিশালী শব্দের সংস্পর্শে থাকলে ধীরে ধীরে কানের শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার যে সমস্যা তৈরি হয়, তাকে শব্দ-প্ররোচিত শ্রবণশক্তি হ্রাস বলা হয়। কারখানার যন্ত্রপাতি, নির্মাণকাজ ও উচ্চ শব্দের সরঞ্জাম ছাড়াও মাইক, শুটিং, ডিস্কো, ব্যক্তিগত স্টেরিও এবং গাড়ির হর্ন থেকেও অতিরিক্ত শব্দের সৃষ্টি হতে পারে।
ইএনটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, ৯০ ডেসিবলের বেশি শব্দ কানের ভেতরের কক্লিয়ায় পরিবর্তন ঘটাতে পারে। শুরুতে কক্লিয়ায় বিপাকীয় ক্লান্তি দেখা দেয়। বারবার ও ক্রমাগত শব্দের সংস্পর্শে এলে কানের বাইরের হেয়ার কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।কোন পর্যায়ে ক্ষতি হয়
কানের হেয়ার কোষগুলো সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। অতিরিক্ত শব্দের প্রভাবে প্রথম সারির পর দ্বিতীয় সারি এবং সবশেষে তৃতীয় সারির, অর্থাৎ সবচেয়ে ভেতরের হেয়ার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে ক্ষতি বাড়তে থাকলে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে আট ঘণ্টার কর্মদিবসের জন্য বর্তমানে গ্রহণযোগ্য শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শব্দের সংস্পর্শের গ্রহণযোগ্য মাত্রা কাজের সময়ের ওপরও নির্ভর করে। পেশাগত বধিরতা একটি ক্ষতিপূরণযোগ্য রোগ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শব্দের কারণে সাময়িক শ্রবণসীমা পরিবর্তন হলে টিনিটাস বা কানে ঝিঁঝি শব্দ হতে পারে। অন্যদিকে স্থায়ী শ্রবণসীমা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।
এ ধরনের ক্ষতি ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে এবং কথা বোঝার সক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে। পরীক্ষায় কানের পর্দা স্বাভাবিক দেখা গেলেও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রবণশক্তির সমস্যা শনাক্ত করা যায়।শব্দদূষণ থেকে বাঁচার উপায়
উচ্চ শব্দের এলাকা এড়িয়ে চলাকে শব্দজনিত শ্রবণক্ষতি প্রতিরোধের একটি উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে কাজ করতে হলে ইয়ার প্লাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ার প্লাগ শব্দদূষণের প্রতিক্রিয়া এক-তৃতীয়াংশ কমাতে পারে।
এ ছাড়া গাড়ির হর্ন ও মাইক ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী। তিনি ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিশেষজ্ঞ।
