পিরোজপুরের নেছারাবাদের ঐতিহ্যবাহী আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগানের পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে পর্যটকদের জন্য আট দফা নির্দেশনা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান একটি পরিবেশ-সংবেদনশীল ও প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকা। এ কারণে পর্যটকদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পর্যটন পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাগান এলাকায় লাউড স্পিকার, সাউন্ড সিস্টেম বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন কোনো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। উচ্চ শব্দ স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সব বয়সী পর্যটকের জন্য শালীন আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বাগানে প্রবেশ, পেয়ারা, আমড়া কিংবা গাছের পাতা ছেঁড়া এবং যেখানে-সেখানে নৌযান ভেড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বড় আকারের ট্রলার বা উচ্চ শব্দযুক্ত ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে বাগানে প্রবেশ করা যাবে না। পরিবর্তে ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযান ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে জলপথে চাপ কমে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
পরিবেশ দূষণ রোধে পর্যটকদের সঙ্গে আনা খাবারের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, প্লাস্টিকসহ যেকোনো ধরনের বর্জ্য পানিতে ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি নৌযানে অন্তত একটি ডাস্টবিন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ট্রলার বা নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া রাখতে হবে। একই সঙ্গে নৌযানের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্রটির পরিবেশ, সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও অমিত দত্ত বলেন, “আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র। এর পরিবেশ, সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটক, নৌযান চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সবার সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।”
