পর্যাপ্ত ঘুমের পর ভোরবেলায় পড়াশোনা করলে শেখার দক্ষতা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রাত জেগে পড়ার তুলনায় সকালে অধ্যয়ন শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি ফলপ্রসূ এবং পরীক্ষার ফলও ভালো হয়।
রাত জেগে পড়াশোনার চেয়ে ভোরে উঠে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের পর সকালে মস্তিষ্ক সবচেয়ে সতেজ ও সক্রিয় অবস্থায় থাকে। ফলে নতুন তথ্য দ্রুত শেখা, মনে রাখা এবং বিশ্লেষণ করা সহজ হয়।
গবেষণা বলছে, রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সাময়িক স্মৃতিকে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়াকে মেমোরি কনসোলিডেশন বলা হয়। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক নতুন তথ্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে। অন্যদিকে, রাত জেগে পড়লে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
মানবদেহের প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী দিনের শুরুতে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ বেশি থাকে। এসব হরমোন সতর্কতা, মনোযোগ ও কর্মউদ্যম বাড়াতে সহায়তা করে। বিপরীতে, রাতে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ঘুমের প্রবণতা তৈরি হয় এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
জ্ঞানীয় বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৫টা থেকে ৮টার মধ্যে মানুষের বিশ্লেষণী চিন্তা ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এ কারণে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান কিংবা অন্যান্য জটিল বিষয় শেখার জন্য ভোরের সময়কে সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়।
ভোরবেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন বা অন্যান্য বাহ্যিক ব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকে। চারপাশের শান্ত পরিবেশ গভীর মনোযোগ বা ডিপ ওয়ার্ক করার সুযোগ তৈরি করে, যা পড়াশোনার কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদা পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পর্যাপ্ত ঘুমের পর সকালে নিয়মিত পড়াশোনা করেন, তাদের পরীক্ষার ফল সাধারণত রাত জেগে পড়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় ভালো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম, ভোরে অধ্যয়ন এবং সুশৃঙ্খল পড়াশোনার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা ও একাডেমিক সাফল্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
