ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) এখন বিশ্বের ১২টি দেশে চালু হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ১৬২ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের ১২টি দেশে এ সেবা চালু রয়েছে। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে ইউপিআইয়ের লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে ভারত সরকার। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল ইউপিআই চালু করে। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০০৭-এর আওতায় পরিচালিত এ প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে দেশটির ডিজিটাল লেনদেনের প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
লোকসভার চলতি অধিবেশনে এক সদস্য ইউপিআইয়ের ব্যবহারকারী সংখ্যা, লেনদেন, বিদেশে সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে লিখিত জবাব দেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী। তিনি জানান, গত মাস পর্যন্ত ইউপিআই প্ল্যাটফর্মে ৫৫ কোটি ৪৯ লাখ ব্যবহারকারী নিবন্ধিত হয়েছেন।
নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, জালিয়াতি প্রতিরোধে ঝুঁকিভিত্তিক লেনদেনসীমা নির্ধারণ, অননুমোদিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন ও এসএমএসভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের সমন্বিত ইউপিআই তথ্য নিরাপত্তা কাঠামো এবং মোবাইল অ্যাপ নিরাপত্তা কাঠামো চালু করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৯৬ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়। পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে এ সংখ্যা বেড়ে যথাক্রমে ৮ হাজার ৩৭১ কোটি, ১৩ হাজার ১১৩ কোটি এবং ১৮ হাজার ৫৮৭ কোটিতে পৌঁছে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৬২ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ৩১৪ দশমিক ২৩ লাখ কোটি রুপি।
পঙ্কজ চৌধুরী আরও জানান, এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড-এর মাধ্যমে ইউপিআই ও রুপে কার্ড নেটওয়ার্ক বিশ্বের ১২টি দেশে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় পর্যটক ও প্রবাসীদের সীমান্তপারের লেনদেন সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে অংশীদার দেশগুলোও ইউপিআইয়ের আদলে নিজস্ব তাৎক্ষণিক ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে।
