পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে কোনো অজুহাতে বিদেশে যেতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নেত্রকোনায় এক পথসভায় তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যেন রাষ্ট্রপতির জন্য কোনো ‘সেফ এক্সিট’ নিশ্চিত করা না হয় এবং দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা শহরের পুরোনো কালেক্টরাল মাঠে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, শারীরিক অবস্থার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তার পেছনে রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আজকে আমরা একটা খবর দেখেছি যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছে তার শারীরিক অবস্থা দেখিয়ে। কিন্তু আমরা জানি খেলাটা কী? বিএনপি সরকার তার পরিকল্পনামাফিক এ রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করিয়েছে।”
পথসভায় তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পরপরই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের সুযোগ না দিয়ে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “শারীরিক অসুস্থতার নামে বা কোনো ধরনের অজুহাতে এই ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতি চুপ্পু কোনো ধরনের সেফ এক্সিট বা বিদেশে যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং সরকারকে অনতিবিলম্বে এই ফ্যাসিস্টের রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
একই সভায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দলটি তাদের ঘোষিত অঙ্গীকার ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, “বিএনপির স্লোগান ছিল সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা এখন তা ভুলে গিয়েছে। তারা ৩১ দফা ভুলে গিয়েছে, জুলাই সনদ ভুলে গিয়েছে, সংস্কার ভুলে গিয়েছে, বিচার ভুলে গিয়েছে। তারা জনগণের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; সব ভুলে গিয়েছে। এখন তাদের স্লোগান আর সবার আগে বাংলাদেশ নেই। এখন তাদের স্লোগান—সবার আগে ক্ষমতা, সবার আগে লুটপাট, সবার আগে চাঁদাবাজি, সবার আগে সন্ত্রাস, সবার আগে দখলদারি।”
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের টেংগাপাড়া স্টেশন মাঠে আরেকটি পথসভায় নাহিদ ইসলাম হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষক ও জেলেদের জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকা হাওরাঞ্চলে দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না। একই সঙ্গে কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জেলেদের জন্য চালু থাকা ‘জেলে কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক কেজি ধান দিয়ে মানুষের জীবিকা নির্বাহ সম্ভব নয়। তাঁর মতে, কার্ডভিত্তিক সহায়তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
হাওরাঞ্চলকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উল্লেখ করে তিনি নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা নিয়ে সরকারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। পরিকল্পিতভাবে মৎস্যসম্পদ ও পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটানো গেলে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতি উভয়ই উপকৃত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি এসব বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।
পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে। আমরা আর কাউকে স্বৈরাচার হতে দেব না।”
নেত্রকোনা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইফতেকার শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক প্রীতম সোহাগ, জেলা কমিটির সদস্যসচিব মো. ফাহিম রহমান খান পাঠানসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
