২০২৭ সালে পবিত্র হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-হজ সিস্টেমে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তবে এর আগে প্রত্যেক আবেদনকারীকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
প্রাক-নিবন্ধনের পর সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন নিশ্চিত করা যাবে। এরপর সরকার নির্ধারিত হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নিজ উদ্যোগে ই-হজ সিস্টেমে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।
অর্থ জমার ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিতে হবে। এজেন্সিগুলোর ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য হজ পোর্টালে তাদের নিজস্ব প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর এমন একটি পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। নিবন্ধনের সময় প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং পছন্দের হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।
এদিকে, হজযাত্রীদের জন্য বয়স ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কয়েকটি শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ বছরের কম বয়সীরা হজে যেতে পারবেন না। এছাড়া গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিল রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক রোগ এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণরত ক্যান্সার রোগী, যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারের মতো সক্রিয় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদের প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ প্রদান করা হবে না।
