জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। এর জবাবে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকজুড়ে অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি বলেন, “We’ll be hitting them hard; they’re going to get a beating.” অর্থাৎ, হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ধরনের চাপ অব্যাহত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাবে রাতভর ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ বিমান হামলা চালায়। এতে সাতটি প্রদেশে অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) হামলার নিন্দা জানিয়ে তাদের ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণালিটি পরিচালনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিরক্ষা গবেষক সাশা ব্রুখমানের মতে, অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে সামরিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় রাখার পরিকল্পনা থেকে ইরান সরে আসেনি।
এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের ঘটনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ৬০ হাজারের বেশি শিশু অন্তত একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
