জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না। গণভোটের রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ভয় বা অন্যায়ের কাছে আমরা কখনো মাথা নত করব না।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এক দলকে সরিয়ে অন্য দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি; রাষ্ট্রের কাঠামোর পরিবর্তনের জন্যই এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের একক মালিকানা জামায়াত কখনো দাবি করেনি।”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হলেও জামায়াতে ইসলামী কখনো স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে আপস করেনি। তার ভাষায়, দলটি দিনের বেলায় প্রতিবাদ আর রাতের বেলায় সমঝোতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়; তবে নিহতদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় যত সময়ই লাগুক, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে একটি গোষ্ঠী চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে আপসের প্রস্তাব এলেও জামায়াতে ইসলামী তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “সংসদে ফায়সালা না হলে সকল শহীদ ও আহত পরিবারকে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সব দাবি আদায় করা হবে।”
