নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। ইসলাম বৈধ ও হালাল বিষয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে উৎসাহিত করে। তবে এমন দোয়া হতে হবে শরিয়তের বিধানের মধ্যে থেকে, আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্টি রেখে এবং নিজের প্রকৃত কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে। ইসলামী আলোচনায় এ বিষয়ে এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা জায়েজ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আল্লাহ বান্দাদের তাঁর কাছে দোয়া করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোয়া কবুলের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈধ যেকোনো চাওয়া আল্লাহর কাছে পেশ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুমোদিত।
তবে এ ধরনের দোয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সম্পর্ক অবশ্যই হালাল হতে হবে। বিয়ের আগে অবৈধ প্রেম, গোপন সম্পর্ক বা অনৈতিক যোগাযোগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। কারও প্রতি ভালো লাগা থাকলেও হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করাই উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নিজের ইচ্ছার চেয়ে আল্লাহর ফয়সালাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কারণ মানুষের জ্ঞান সীমিত হলেও আল্লাহ সর্বজ্ঞ। এ কারণে দোয়ার সময় এমনভাবে প্রার্থনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—যদি সেই ব্যক্তি দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হন, তাহলে যেন তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়; অন্যথায় উত্তম বিকল্প এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক কামনা করা উচিত।
এ ছাড়া বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তিখারা করার সুন্নতি পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সহিহ বুখারির হাদিসের আলোকে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন। তাই বিয়ের সিদ্ধান্তের আগে দুই রাকাত সালাতুল ইস্তিখারা আদায় করা সুন্নত।
প্রতিবেদনটিতে নেক জীবনসঙ্গী ও সন্তানের জন্য সুরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতভিত্তিক দোয়া এবং হজরত মুসা (আ.)-এর সুরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াতভিত্তিক দোয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে উত্তম জীবনসঙ্গী, কল্যাণ এবং তাঁর রহমত কামনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শেষে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য দোয়া করা ইসলামে বৈধ হলেও সেই প্রার্থনার সঙ্গে তাকওয়া, ধৈর্য, বৈধ প্রচেষ্টা, ইস্তিখারা এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি পূর্ণ আস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুধু নিজের ইচ্ছা পূরণের জন্য নয়, বরং নেক, দ্বীনদার ও চরিত্রবান জীবনসঙ্গী লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি পছন্দের ব্যক্তি সত্যিই কল্যাণকর হন, তাহলে আল্লাহ যেন হালাল ও বরকতময় বন্ধনের পথ সহজ করে দেন; আর তাতে কল্যাণ না থাকলে উত্তম বিকল্প দান করেন—এমন দোয়া করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
