ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিন ও জুমাবারের রাত-দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের গুরুত্ব তুলে ধরতে পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরাও নাজিল হয়েছে। জুমার দিন নামাজের আহ্বান হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং দুনিয়াবি বেচাকেনা ও কাজকর্ম ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ কোরআনে এসেছে।
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল হলো—
হাদিসে জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং তাঁকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়। একই দিনে তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো বান্দা হারাম কিছু না চাইলে আল্লাহর কাছে করা দোয়া কবুল হয়। এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)
জুমার নামাজ আদায় করা এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জুমার দিন গোসল করে পবিত্রতা অর্জন, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া এবং ইমাম খুতবা শুরু করার পর নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা—এসব আমলের মাধ্যমে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
অন্য একটি হাদিসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচনের কথা বলা হয়েছে, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা হয়। (মুসলিম, হাদিস: ২৩৩)
জুমার দিন গোসল করা এবং আগে মসজিদে পৌঁছানো সওয়াবের আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ভালোভাবে গোসল করে দ্রুত মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে বিভিন্ন সময়ে মসজিদে প্রবেশকারীদের আমলের ফজিলত বিভিন্ন কোরবানির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ইমাম খুতবার জন্য আসার পর ফেরেশতারা খুতবা শোনেন বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছু চাইলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এ সময়টি আসরের পর অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
জুমার দিনের আরেকটি আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। হাদিসে বলা হয়েছে, জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত তা পাঠকারীর জন্য আলো হিসেবে থাকবে। একই সঙ্গে সুরাটির শেষ ১০ আয়াত পাঠের ফজিলতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ তারগিব, হাদিস: ১৪৭৩; আল মুসতাদরাক: ২/৩৯৯)
জুমার দিন গোসল করে পবিত্রতা অর্জন, সুগন্ধি ব্যবহার, মসজিদে যাওয়া, মুসল্লিদের ফাঁক করে সামনে না যাওয়া, নামাজ আদায় এবং ইমামের বক্তব্যের সময় নীরব থাকার মাধ্যমে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
জুমার দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের কথাও হাদিসে এসেছে। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জুমার দিনকে সর্বোত্তম দিনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে এ দিনে বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
