বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত বিদেশি ফল টক আতা বা সাওয়ারসপ ধীরে ধীরে ছাদবাগান ও গবেষণা খামারে জায়গা করে নিচ্ছে। স্বাদে টক-মিষ্টি এই ফলের বিশেষ আকর্ষণ এর অনন্য সুগন্ধ, যেখানে একসঙ্গে আম, স্ট্রবেরি ও আনারসের ঘ্রাণের অনুভূতি পাওয়া যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত দাবি সত্ত্বেও ক্যানসার নিরাময়ে এ ফল বা এর পাতার কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সিলেটের খাদিমনগরে একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে লেখকের নজরে আসে টক আতার গাছ। বৃষ্টির পর গাছের নিচে পড়ে থাকা প্রায় পাকা একটি ফল সংগ্রহ করে স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হয়। ফলটির সাদা নরম শাঁস আতার মতো হলেও স্বাদ ছিল টক-মিষ্টি। তবে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে এর সুগন্ধ, যেখানে একই সঙ্গে আম, স্ট্রবেরি ও আনারসের ঘ্রাণের সমন্বয় অনুভূত হয়েছে।
পরে ঢাকায় ফিরে তিনি নিজের বাসার ছাদবাগানেও একটি টক আতার গাছ দেখতে পান। যদিও তখন গাছে ফল ছিল না, পরে সেখানে ফল ধরতে শুরু করে। একই সময়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের গবেষণা মাঠেও কয়েকটি পরিণত টক আতার গাছ এবং কচি ফল দেখতে পান তিনি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের অধ্যাপক ড. মনিরুল জানান, গবেষণা মাঠে গাছগুলো সংরক্ষিত থাকায় টিকে আছে। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টক আতার পাতা ক্যানসার নিরাময়ে কার্যকর—এমন প্রচারণার পর অনেকেই গাছের পাতা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষায়, “গবেষণা মাঠ বলে রক্ষা। না হলে এসব গাছের একটা পাতাও রাখা যেত না। অনেকে টক আতা নামে চেনেন না, করোসল নামেই বেশি পরিচিত।”
এ বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, টক আতা বা করোসল ক্যানসার প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসায় কার্যকর—এমন কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (FDA) এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও ক্যানসার চিকিৎসার জন্য এ ফল বা এর পাতাকে অনুমোদন দেয়নি। তবে ফলটির পুষ্টিগুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
উদ্ভিদতাত্ত্বিকভাবে টক আতার ইংরেজি নাম Soursop এবং বৈজ্ঞানিক নাম Annona muricata। এটি অ্যানোনেসি (Annonaceae) গোত্রভুক্ত এবং আতা ও শরিফার নিকটাত্মীয় হলেও ভিন্ন প্রজাতির।
টক আতার গাছ আকারে ছোট, কাণ্ড মসৃণ এবং কচি ডাল রোমশ। পাতাগুলো চকচকে সবুজ ও ডিম্বাকার। ফল সাধারণ আতার মতো গোলাকার নয়; বরং কিছুটা হৃদপিণ্ডাকৃতি এবং খোসাজুড়ে ছোট ছোট কাঁটা থাকে। কাঁচা অবস্থায় ফল সবুজ, আর পাকলে হলুদাভ-সবুজ রং ধারণ করে।
মেক্সিকো থেকে উৎপত্তি হওয়া এই ফলের গাছ বসতবাড়ির বাগান কিংবা ছাদবাগানে সহজেই লাগানো যায়। পাকা ফলের শাঁস দিয়ে আইসক্রিম, জুস ও বিভিন্ন ধরনের ডেজার্টও তৈরি করা হয়।
