বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে ঘিরে রোমাঞ্চিত অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সীমিত অভিজ্ঞতা এবং ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডের অজানা কন্ডিশনকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ফলে বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারেরই বাংলাদেশ সম্পর্কে মাঠের অভিজ্ঞতা সীমিত। ঘোষিত ১৩ সদস্যের স্কোয়াডে জশ হ্যাজলউড ও অ্যালেক্স ক্যারিই বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি, তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৯টি করে ম্যাচ খেলেছেন।
টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাজলউডের অভিজ্ঞতা আরও কম। ২০১৭ সালে মিরপুরে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টে খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে ১৯.১ ওভার বল করেও কোনো উইকেট পাননি, আর ২০ রানের ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
আসন্ন সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। এই মাঠের কন্ডিশন সম্পর্কেও তেমন ধারণা নেই হ্যাজলউডের। কারণ, অস্ট্রেলিয়ায় এই ভেন্যুতে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ব্যবধান ২২ বছর।
‘আনপ্লেয়েবল পডকাস্ট’-এ হ্যাজলউড বলেন,
“সিরিজটা শুরু করার আগে অনেক কিছুই অজানা। মাঠের পরিস্থিতি অজানা, বিশেষ করে উইকেট এবং এই অবস্থায় প্রতিপক্ষের ধরনটা কেমন হবে। ফলে অনেক কিছুই অজানা, তবে আমার মতে এটা বেশ রোমাঞ্চকর।”
তিনি আরও বলেন, ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও ম্যাচের বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিকল্পনা বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।
“ভিডিও ফুটেজ তো অবশ্যই আছে, সেখান থেকে ব্যাটসম্যানদের খেলার ধরন বোঝা সম্ভব। তবে মাঠে নেমে তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজানোর প্রয়োজনও হতে পারে, যা সব সময়ই ব্যতিক্রমী ও নতুনত্বের স্বাদ দেয়।”
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার কেন রিচার্ডসনের মতে, মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডের উইকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত টেস্ট উইকেটের মতো অতিরিক্ত গতি বা বাউন্স দেবে না। ডারউইনের আবহাওয়া ও উইকেটের বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি অনেকটাই বাংলাদেশের পিচের মতো আচরণ করতে পারে।
পডকাস্টে রিচার্ডসন বলেন,
“কন্ডিশন নিয়ে কী আশা করব, তা নিশ্চিত নই। তবে এটা অন্তত প্রথম দিনে পার্থ কিংবা গ্যাবায় খেলার মতো হবে না। অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ টেস্ট উইকেটের মতো ফাস্ট বোলাররা এখানে অতিরিক্ত মুভমেন্ট, সুইং বা বাউন্স পাবেন বলে আমার মনে হয় না। বরং নিচু বাউন্সের বিবেচনায় কন্ডিশন অনেকটাই বাংলাদেশের পিচের মতো হতে পারে।”
নিজের বোলিং পরিকল্পনা প্রসঙ্গে হ্যাজলউড বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে তিনি সবসময় সহজ ও ধারাবাহিক কৌশলে বিশ্বাসী।
“পরিকল্পনাটা খুবই সাধারণ। আসল বিষয় হলো ঠিকঠাক বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেটা ধরে রাখা। খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে পারে, তখন কৌশলেও পরিবর্তন আনতে হয়। টেস্টে সেই সুযোগ থাকে, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সামান্য ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হয়।”
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ দল আজ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছে।
