ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানকে ‘পুনরাবৃত্তি নাটুকে কূটনীতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। হামলার ঘোষণা দিয়ে পরে তা স্থগিত করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি ওয়াশিংটনকে বাস্তবতা মেনে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘বড় ধরনের হামলা আসছে… দাঁড়ান, বাদ দিন, তারা আলোচনা করতে চায়’—এটাই বারবার দেখা যাওয়া নাটুকে কূটনীতি। তাঁর ভাষ্য, জোরজবরদস্তি, ভঙ্গ করা প্রতিশ্রুতি এবং ভুয়া তথ্যের ব্যবহার কোনো কার্যকর কৌশল নয়; বরং এটি একটি ব্যর্থ নীতি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নেওয়া এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। তাঁর দাবি, নতুন কোনো ‘নাটকের’ প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
গত জুনে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করলেও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা অচল হয়ে পড়ে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে তিনি জানান, ইরান আলোচনায় সম্মত হওয়ায় ওই হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিও হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
