প্রকৌশল বিভাগে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে সব ধরনের পদোন্নতি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু সাঈদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নেয়। গত ৩ আগস্ট সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত সম্প্রতি গৃহীত পদোন্নতি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশল বিভাগে নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে ১৫টি অনুমোদিত পদ প্রত্যাহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৮ জুন একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পার্ট-১৪৫ বিধিমালার আওতায় অনুমোদিত জনবল কমিয়ে দেওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ দিকে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কনিষ্ঠ কর্মীকে অস্বাভাবিকভাবে গ্রুপ-৬ পদে পদোন্নতি দিতে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩১ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আটজন যোগ্য প্রকৌশলীর পদোন্নতির ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা, লাইসেন্স ভাতা বন্ধ রাখা এবং কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা, বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার ছাড়াই পদোন্নতি প্রদান, বদলির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পদ শূন্য দেখিয়ে পরে আগের পদে ফিরিয়ে আনা, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া, টেকনিক্যাল দায়িত্ব পালন না করেও ভাতা প্রদান, কাগজে-কলমে ভিন্ন পদায়ন দেখানো, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং এক পদে নিয়োগ দিয়ে অন্য পদে দায়িত্ব পালনের মতো বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়া সাংগঠনিক কাঠামোয় অস্তিত্ব না থাকা পদেও বেতন দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়ালেও শাস্তির পরিবর্তে তাকে অন্য বিভাগে বদলি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তাদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। একই কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে একই পদে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, “মন্ত্রণালয় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগের তদন্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।”
