উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পূর্ণাঙ্গ ও অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনসহ প্রশাসনিক নানা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জনবল ঘাটতির পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর চলতি দায়িত্বে থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিএমডিএর ওয়েবসাইটে সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য আলাদা বিভাগ থাকলেও সেখানে অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম বা পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামোর তথ্য পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোন পর্যায়ে কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন, দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে এবং পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব নির্ধারণ করা হয়।
তাঁদের মতে, অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম না থাকলে দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন প্রকল্পের প্রয়োজনে জনবল বাড়লেও স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে তার সমন্বয় হয় না। এতে দক্ষ কর্মী ধরে রাখা এবং কৃষক ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, ১৯৮৫ সালে বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (বিআইএডিপি) হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু। ১৯৯২ সালে এর নাম পরিবর্তন করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সংসদে ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ’ পাস হয়।
বর্তমানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৩৫টি উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিএমডিএ। এর মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ স্থাপন, নিবিড় বনায়ন, সেচনালা নির্মাণ, খাল খনন এবং গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ।
বিএমডিএ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরোক বলেন, সংস্থাটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ১ হাজার ৯১১ জন জনবলের একটি প্রস্তাবিত কাঠামো কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৬০০ জন নিয়োগের একটি আদেশ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই নিয়োগ কার্যকর হলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল কাঠামোর বিষয়টিও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএমডিএ চেয়ারম্যান হাসান জাফির তুহিন বলেন, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে বর্তমানে বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতার বড় একটি অংশ দূর হবে।
