পঞ্চগড়ের বোদা পৌর এলাকার নাজিরপাড়া গ্রামে প্রায় ১৫ বছর ধরে নিয়মিত আসছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি। প্রতিবছর জুন-জুলাইয়ে বংশবিস্তারের জন্য গ্রামটির বড় বড় গাছে আশ্রয় নেয় এসব পাখি। তাদের কিচিরমিচির, ডানার ঝাপটানি আর ছানাদের আনাগোনায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর থাকে পুরো এলাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরপাড়ার বিভিন্ন গাছের ডালে অসংখ্য পাখির বাসা। শামুকখোল, বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, রাতচরা ও ঘুঘুসহ নানা পাখির বিচরণ চোখে পড়ে। কোনো বাসায় সদ্য ফোটা ছানা মাথা উঁচু করে রয়েছে, আবার কোথাও মা পাখি ছানার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। পাখিদের এমন দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও প্রকৃতিপ্রেমী, দর্শনার্থী ও আলোকচিত্রীরা নাজিরপাড়ায় আসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর জুন-জুলাইয়ের দিকে পাখিগুলো এখানে এসে গাছে বাসা বাঁধে, ডিম দেয় এবং ছানা ফোটায়। বংশবিস্তার শেষে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস পর নভেম্বর-ডিসেম্বরে তারা নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যায়। প্রায় দেড় দশক ধরে একইভাবে পাখিদের এই আসা-যাওয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান আজাদ বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর পাখিগুলো নাজিরপাড়ায় আসছে। বিদেশি পাখির মধ্যে শামুকখোল মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। বাইরে থেকে কেউ পাখি শিকার করতে এলে গ্রামের তরুণ ও অভিভাবকেরা সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করেন।
তবে পাখির মলমূত্রের কারণে পরিবেশ কিছুটা নোংরা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, পৌরসভা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি কমবে।
আরেক বাসিন্দা হাবিবুল আলম বলেন, পাখিদের উপস্থিতির কারণে নাজিরপাড়া এখন আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। পাখির মলমূত্রে কিছুটা সমস্যা হলেও গ্রামের মানুষ তা মেনে নিয়েছেন। অনেকেই নিয়মিত পাখিদের খাবারও দেন।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, নাজিরপাড়া প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি এলাকা। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এখানে এসে বাসা বাঁধে এবং বংশবিস্তার করে।
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পাখি সংরক্ষণে সচেতন করা হয়েছে। পাখিদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, যেসব গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে, সেসব গাছ ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশাসন গুরুত্ব দিচ্ছে। গাছ না কাটার জন্য স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিতে সভাও করা হচ্ছে।
