রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার, আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহণের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে জেলার জেলে ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সোমবার মধ্যরাত থেকেই জেলেরা নৌকা ও জাল নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নেমেছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর থেকে হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহণ করা যাবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদন নিশ্চিত করতে চলতি মৌসুমে প্রথমে ২৪ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন সম্পন্ন না হওয়ায় পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।
এরই মধ্যে হ্রদে মাছের প্রজনন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ফয়েজ আল করিম বলেন, কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলে, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীরা নিজেদের পেশায় ফিরেছেন। এবার সফলভাবে মাছ আহরণ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এবার কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় বেশি। রাঙামাটি জেলার প্রায় ২৭ হাজার জেলে হ্রদের মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের সুষ্ঠু ও প্রাকৃতিক প্রজনন, উৎপাদন এবং বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই ২৪ এপ্রিল থেকে মাছ শিকার, আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। মাছের প্রজনন মৌসুম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে থাকা জেলেদের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার স্বস্তির খবর। একই সঙ্গে হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত হওয়ায় নতুন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
