সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে ‘সিন্ডিকেটের’ প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত দামের এক বস্তা টিএসপি সার কৃষকদের ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে কিনতে হচ্ছে। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সারও ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পোস্টে তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে প্রতি বস্তা টিএসপি সারের মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা। অথচ কৃষকদের কাছ থেকে তা নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বস্তায় সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। এই বাড়তি অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কার পকেটে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষকেরা খাদ্য উৎপাদন করলেও বর্তমানে এক বস্তা সার সংগ্রহের জন্য তাঁদের দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে সারের ঘাটতি নেই এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে বলে সরকার জানালেও কৃষকেরা বিক্রয়কেন্দ্রে গেলে অনেক সময় তাঁদের বলা হচ্ছে সার শেষ হয়ে গেছে। তবে বেশি দাম দিতে রাজি হলে একই সার পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীনের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সার ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
সার বাজারে কারা ‘সিন্ডিকেট’ পরিচালনা করছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ্যে না থাকলেও নেপথ্যে ‘ভাইয়া’ নামটি বারবার সামনে আসছে।
তবে ‘ভাইয়া’ বলতে তিনি কাকে বোঝাচ্ছেন, তা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেননি।
পোস্টের মন্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘সবার আগে সিন্ডিকেট, সবার আগে ভাইয়া। ভাইয়া সিন্ডিকেট রাজ্যে সবাইকে স্বাগত!’
সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, কাগজে-কলমে মনিটরিং কমিটি থাকলেও বাস্তবে কৃষকেরা এখনো ন্যায্য দামে সার পাচ্ছেন না।
কৃষকের কষ্টার্জিত অর্থ যেন ‘সিন্ডিকেটের’ হাতে না যায়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তবে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সার বিক্রেতা বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
