দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে যে সুযোগ রয়েছে, ভারতের উচিত সেটি কাজে লাগানো।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন কমানোর সুযোগ তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমি বলি, যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগ তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা, ঠিক আছে?’
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে নেয় না।
তিনি বলেন, ‘আমরা তো আগেই বলেছি যে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে কথা বলে, সেটা বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না, নেয় না। জুলাইয়ের কথা এখনো মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি।’
এ কারণে পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীল থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসলে অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান প্রত্যাশা করে বলেও জানান তিনি।
‘সুতরাং সেই জায়গা থেকে অবশ্যই আমাদের সংবেদনশীল হতে হবে। কিন্তু যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান বসবেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বসেন, তখন অবশ্যই অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে, অনেক সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব এবং সেটাই আমরা আশা করি। ভারত যেন এটা মনে রাখে, সেটাই আমরা আশা করি,’ বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান ও ভারত সফর নিয়েও সাংবাদিকেরা জানতে চান। জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, এখন পর্যন্ত কোনো সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কবে জাপান সফর করবেন, সেটার দিনক্ষণ কোনোটাই এখনো ঠিক হয়নি। আমাদের দুই দেশেরই একটা সুইটেবল সময়ে সেটা নির্ধারিত হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতসহ অন্য কোনো দেশের সফরই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এসব সফরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
