কুমিল্লা নগরীতে চাষ হচ্ছে ‘চারাপিতা’ নামের একটি বিরল মরিচ। চাষিদের দাবি, পেরুর এই মরিচের প্রতি কেজির দাম প্রায় ২৮ লাখ টাকা। তবে বাংলাদেশে এ মরিচের সর্বোচ্চ বাজারদর কত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন সৌখিন চাষি এখন বাসাবাড়িতে এর চাষ করছেন।
সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টির একটি বাসায় ছয়টি বালতিতে চারাপিতা মরিচের গাছের চাষ দেখা গেছে। বাগানি কাজী শারমিন আক্তার গাছগুলোর পরিচর্যা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় থাকা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি পাকা মরিচ সংগ্রহ করে সেখান থেকে ছয়টি চারা তৈরি করেন। একটি মরিচে ১৫ থেকে ২০টি বীজ থাকে। তাঁর গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে এবং তিনি প্রতিটি মরিচ ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন।
চারাপিতা মরিচ দেখতে গোলাকার। কাঁচা অবস্থায় এর রং সবুজ থাকলেও পরিপক্ব হলে হলুদ বা উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করে। মরিচটি খুব ঝাল নয় বলে চাষিদের ভাষ্য। তবে এর বিশেষ ধরনের সুগন্ধ রয়েছে, যা খাবারে স্বতন্ত্র ঘ্রাণ ও স্বাদ যোগ করে।
কুমিল্লায় এ মরিচের চাষের সূচনা করেন কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম। তিনি ২০২২ সালে নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাগানবাড়িতে প্রথম এটি চাষ শুরু করেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে সম্ভবত তিনিই প্রথম চারাপিতার বীজ রোপণ করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা ৫০টি বীজের মধ্যে মাত্র তিনটি থেকে চারা উৎপাদন সম্ভব হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাছ থেকে টানা তিন বছর পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়।
জামিল সেলিম বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে থেকেই তিনি এ মরিচ চাষের চেষ্টা শুরু করেছিলেন। চার বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে চাষ শুরু করেন। তাঁর দাবি, চারাপিতা বিশ্বের সবচেয়ে দামি মরিচ এবং প্রতি কেজির দাম ২৬ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তাঁর মতে, দেশে এ মরিচের বাজার তৈরি করা গেলে কৃষকেরা ভালো আয় করতে পারবেন।
কাজী শারমিন আক্তার জানান, তাঁর বোনও রানীর দিঘির পাড়ের বাসায় চারাপিতা মরিচ চাষ করেছেন। এ মরিচের বাজার তৈরিতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সঙ্গে দেখা করার কথাও জানিয়েছেন শারমিন।
কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিশ্বের দামি বলে পরিচিত একটি মরিচের চাষ হচ্ছে—এটি সম্ভাবনাময় বিষয়। তবে কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে কৃষি বিভাগের গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজার তৈরি ও রপ্তানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা উচিত।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কুমিল্লায় জামিল সেলিমই প্রথম এ মরিচের চাষ শুরু করেন। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এটিকে দুর্লভ মরিচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এটি সর্বোচ্চ কত দামে বিক্রি হয়েছে, সে তথ্য জানা নেই।
ড. জামাল উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া চারাপিতা চাষের উপযোগী কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করা দরকার। পেরুর মরিচটি যদি একই জাতের হয়ে থাকে, তাহলে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ সম্ভব কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে হবে। গবেষণার ফল ইতিবাচক হলে মাঠপর্যায়ে চাষের সুযোগ তৈরি করা গেলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন।
