ইরান সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকলেও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক সম্পাদকীয়তে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইরান তাদের মজুত করা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
সম্পাদকীয়টির ভাষ্য অনুযায়ী, এমন হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলে এতে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণার আগেই তেহরানের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়াকে ইরানের জন্য একটি কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পাদকীয় অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০০টি জাহাজ চলাচল করছে। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় এটি এখনো কম।
ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সম্পাদকীয়তে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং ব্যাপক বেকারত্ব ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সরকার নিয়মিত সেনাবাহিনীর বেতন পরিশোধেও সমস্যায় পড়ছে। এর প্রভাব দেশটির প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপরও পড়তে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতও তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে দেশটি ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনসহ সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে দুবাই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং ইরানের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি এই শহরের মাধ্যমে আসত বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, তেহরানের এক পক্ষ কঠোর বক্তব্য দিচ্ছে, অন্যদিকে আরেক পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে শান্তির বার্তা দিচ্ছে। লেখাটির দাবি, ইরানের নেতৃত্ব অতীতেও এ ধরনের ‘ভালো পুলিশ, খারাপ পুলিশ’ কৌশল ব্যবহার করেছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের সম্পাদকীয়তে মার্ক ডুবোউইৎসের একটি সতর্কতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, তেহরান পরিস্থিতি পাল্টাতে শেষবারের মতো বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগেই মার্কিন জনগণকে সতর্ক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সম্পাদকীয়তে। পাশাপাশি এতে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে চাপে থাকলেও দেশটির হাতে এখনো কিছু সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা রয়েছে।
তবে অক্টোবরে ইরান সত্যিই বড় ধরনের হামলা চালাবে—এটি নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়; এটি নিউইয়র্ক পোস্টের সম্পাদকীয়তে প্রকাশিত একটি সম্ভাব্যতার পূর্বাভাস।
