অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য গর্বের উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন তিনি। কঠিন কন্ডিশন ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ স্বীকার করেও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন এই পেসার।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাসকিনের অবশ্য আগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১২ সালের যুব বিশ্বকাপ, ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—তিনবারই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলেছেন তিনি। তবে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল। তখন তাসকিনের বয়স ছিল মাত্র আট বছর।
আজ ডারউইনে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তাসকিন। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পেরে সত্যি সম্মানিত বোধ করছি। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ যে কঠিন হবে, সেটিও স্বীকার করেছেন তাসকিন। তাঁর ভাষায়, ‘তাদের মাটিতে ও তাদের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলা আমাদের সব ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমাদের জন্য সিরিজটা নিশ্চিতভাবেই সহজ হবে না, তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে আশাবাদী।’
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে। সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ হারে তারা।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ফল নিয়ে পড়ে থাকতে চান না তাসকিন। তিনি বলেন, ‘হেরে যাওয়ার অনুভূতিটা অবশ্যই সুখকর ছিল না। তবে ক্রিকেটে এমনটা হতেই পারে। আমরা এখনো এখানকার কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ম্যাচটা হেরে গেলেও ভালো একটা প্রস্তুতি হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট পরিসংখ্যানও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এখন পর্যন্ত দুই দল ছয়টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে মিরপুরে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি পাঁচটিতেই হার, যার তিনটি ছিল ইনিংস ব্যবধানে। সর্বশেষ ২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরেও দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
তবে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজ থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেখছেন তাসকিন। গত জুনে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল। সেই সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে দারুণ একটা সিরিজ খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছিলাম, তাদের বিপক্ষে খেলতে আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে সেটা। তবে হোম ও অ্যাওয়ে কন্ডিশনের মধ্যে তো বড় ফারাক থাকেই, দেখা যাক এবার কী হয়।’
আগের সাফল্য থেকে আত্মবিশ্বাস পেলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে—এ কথা মাথায় রেখেই দুই টেস্টের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। তাসকিনের লক্ষ্য, কঠিন পরিবেশে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।
