গুমসংক্রান্ত মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে র্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত ‘আয়নাঘর’ বা বন্দিশালা পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারক। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশনা দেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চে অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ডিজিএফআইয়ের জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) এবং র্যাবের টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলের বন্দিশালা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন বিচারকরা। এ সময় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন, ডিফেন্স এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে বহু গুমের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্থানে আটক রাখা হতো, যেগুলো জেআইসি বা টিএফআই সেল নামে পরিচিত। এর মধ্যে র্যাব-১-এর টিএফআই সেল, কচুক্ষেতে ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি এবং ডিবি কার্যালয়ের কয়েকটি স্থানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, মামলার স্বার্থে এসব স্থাপনা পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সম্মতি দিয়েছে। তিনি বলেন, পরিদর্শনের তারিখ ও সময় ট্রাইব্যুনাল পরবর্তীতে নির্ধারণ করবে এবং এ বিষয়ে প্রসিকিউশনকে প্রয়োজনীয় নোটিশ দেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বর্তমানে জেআইসি ও টিএফআই সেলে গুমের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলছে। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
