চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি জানান, দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট না নিয়ে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, চলতি মাসের শেষদিকে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব। তবে দেশের সব ইউনিয়নে একই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কঠিন। এ কারণে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরা প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন, তাই পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেতিবাচক পর্যবেক্ষণের কথাও জানান আনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক পরিবেশের জন্য বড় বাধা হতে পারে। এতে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে কমিশন।
ভোটার স্থানান্তর প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ভোটার স্থানান্তর করা হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। ভুল বোঝাবুঝি ও অনিয়ম এড়াতে ইসি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও আধুনিক করতে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য পোস্টাল ব্যালট ভোটিংকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করাই কমিশনের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন আনোয়ারুল ইসলাম।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও কারচুপি ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন কাজ করছে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
