ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে সামনে এসেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেসের নাম। ৪৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী ও সাবেক ফুটবলার ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রকাশ্য সমালোচক। এমনকি তিনি ফিফা সভাপতির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি ক্লাভেনেস।
ক্লাভেনেসের ফুটবল ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২২ সালে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্লাভেনেস। পরের বছর ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের বিরোধিতা করে নরওয়ে। নরওয়ের সাংবাদিক মিনা ফিনস্তেদ বার্গের মতে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে সমালোচনা এখন শোনা যায়, তার সূচনা হয়েছিল ক্লাভেনেসের অবস্থান থেকেই।
চলতি বছরে ফিফা সভাপতিকে ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপে বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য ফিফার প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা—এই তিন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন।
বিষয়গুলো তারা ফিফার এথিকস কমিটির কাছেও উত্থাপন করেছে।
দীর্ঘ সময় বড় কোনো টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য সাফল্য না পাওয়া নরওয়ে এবার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছে। জাতীয় দলের এই সাফল্য ফেডারেশনপ্রধান ক্লাভেনেসের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে নিজেকে তিনি এখনো ফিফা সভাপতির পদ পাওয়ার দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখাননি। বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ক্ষমতার লড়াই হিসেবেও দেখতে চান না তিনি।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ফিফার নেতৃত্বে এবার একজন নারীর আসা উচিত।
ক্লাভেনেসের সম্ভাব্য প্রার্থিতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইউরোপের বাইরে, বিশেষ করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় তাঁকে অতি-উদারপন্থী হিসেবে দেখা হয় বলে ধারণা রয়েছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাতেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান খুব শক্তিশালী নয়। ২০২৩ সালে উয়েফার নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে পরাজিত হন ক্লাভেনেস। অবশ্য ২০২৫ সালে নারীদের জন্য সংরক্ষিত একটি আসনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে নেন তিনি।
নরওয়ের সাবেক গোলরক্ষক এরিক থর্স্তভেটও ক্লাভেনেসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ইউরোপেই যেখানে ক্লাভেনেসের জয় পাওয়া কঠিন হয়েছে, সেখানে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ভোটারদের সমর্থন তিনি কতটা আদায় করতে পারবেন?
আগামী বছর মার্চে ফিফা সভাপতির চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইনফান্তিনো। এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী।
তবে ক্লাভেনেস শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হলে ফিফা সভাপতির নির্বাচন নতুন মাত্রা পেতে পারে। আপাতত তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব এই নরওয়েজীয় নারীই সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন।
