যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে কাতার। এর অংশ হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইরানের রাজধানী তেহরানে সফর করছেন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপ এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাতার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতেও দেশটি সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন বিশ্বের সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। গত তিন মাসের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়েও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে। তেহরান প্রণালিটিকে চাপ তৈরির পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইছে। জাহাজগুলো থেকে ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, তবে এতে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখান থেকে পাওয়া রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে ইরান ও ওমান এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যা দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য। তবে পরে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেছেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা স্মারকের অধীন তেহরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটন পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
কাতার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও ইরানের প্রতিবেশী দেশ। যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রেও কাতারের সরাসরি ভূমিকা ছিল।
এবারের তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে উত্তেজনা কমানো এবং দুই পক্ষকে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশে ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি এ সফরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
