সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে আমানতের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন থাকছে না।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি জানায়।
সাক্ষাতে গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও বিষয়টি নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই ব্যাংকটির সব আমানতকারীকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতিমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী তুলতে পারবেন।
এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতের মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিন পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়, আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর মুনাফা পাবেন না।
আন্তর্জাতিক রীতি অনুসরণ করে দুই বছরের মুনাফায় ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে আমানতকারীদের আমানতের একটি অংশ কেটে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে শুরু থেকেই আমানতকারীরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক।
ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের জন্য ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
