২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যায় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনেও ফল প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পর পাসের হারে রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায়ও ঢাকা বোর্ড সবার ওপরে। বোর্ডভিত্তিক জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—রাজশাহীতে ১৬ হাজার ১১৩, কুমিল্লায় ৯ হাজার ৮১৪, যশোরে ১১ হাজার ৪৭৮, চট্টগ্রামে ৯ হাজার ৩৯৮, বরিশালে ২ হাজার ৭৭৮, সিলেটে ৩ হাজার ৮৩৬, দিনাজপুরে ১৩ হাজার ৬৩৯ এবং ময়মনসিংহে ৫ হাজার ৭০০।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ ছাত্রের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী। একইভাবে ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
২০২৬ সালের পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৬৯ এবং শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১২।
গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি। একই সময়ে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান কমেছে, আর কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।
শূন্য পাসের ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন পরীক্ষার্থী।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থীর পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সোমবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল জানতে পারবে। এ ছাড়া এসএমএসের মাধ্যমেও ফল দেখার সুযোগ রয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ হিসেবে: SSC Dha 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফল জানানো হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রিরেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। Dakhil MAD 123456 2026 লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফল প্রকাশের পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল জানতে SSC TEC 123456 2026 লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পেতে বোর্ডের ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিতে হবে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়। সেই হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
