প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এ মাসের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে দুই দিনের সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভারত ২০ ও ২১ আগস্ট সফরের প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২২ ও ২৩ আগস্টের মতো কাছাকাছি অন্য তারিখ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর আয়োজন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি ভারত ২০ ও ২১ আগস্ট সফরের প্রস্তাব দেয়। এরপর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেন। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সফর নিয়ে বাংলাদেশ বা ভারত—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সংবেদনশীল বিষয়গুলোর সমাধানের বিষয়ে ঢাকার আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে ভারত সব বিষয় খোলামনে আলোচনার পাশাপাশি সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সফরের সময় নির্ধারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রয়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এসব কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যেতে পারেন। এ কারণে ২২ ও ২৩ আগস্ট দিল্লি সফর আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ ভাবছে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকায় ফিরেছেন দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। চার দিনের দিল্লি সফর শেষে গত শুক্রবার দুপুরে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পর্কসংক্রান্ত বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি সম্পর্ক উন্নয়নে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা এবং বাংলাদেশের জন্য বার্তা নিয়ে ফিরেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে দিল্লি থেকে ফেরার পর গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথে বর্তমানে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
এ ছাড়া ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা যেসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বা বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো বন্ধে ভারতের কাছ থেকে জোরালো নিশ্চয়তা চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের আভাস।
রাজনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের অবাধ চলাচলের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।
এর সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়নের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য আলোচনায় এ বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনো সফরের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
